যুবশক্তি প্রকল্প

যুবদের হাতে উন্নয়নের চাবিকাঠি

বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ এর যোগ্য কারা রয়েছে? কবে থেকে আবেদন শুরু? জানালো মুখ্যমন্ত্রী।

Swami Vivekananda Scholarship(বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ)

রাজ্যে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শপথ গ্রহণের পর থেকে একের পর এক ধামাকাধার প্রকল্প সূচনা করে চলেছেন রাজ্যের জনগণকে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন সরকারের কোনরকম সরকারি জনদরদী প্রকল্প বা স্কলারশিপ বন্ধ হবে না। কথার সাথে কাজের মিল দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে। প্রাক্তন সরকারের সূচনা করা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে শুরু করে যুব সাথী, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, বিবেকানন্দ স্কলারশিপ এর মতন অন্যতম জনপ্রিয় স্কলারশিপ চালু থাকছে বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ চালু থাকছে এবং মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য এই স্কলারশিপের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হবে। আবেদন নেওয়া হবে খুব শীঘ্রই। প্রাক্তন সরকারের আমলে এই বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ এর সূচনা হয়েছিল, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী পড়ুয়াদের পড়াশুনার জন্য বৃত্তি প্রদান করা এবং উচ্চ শিক্ষার হার বাড়ানো। অনেক পড়ুয়ার মনে প্রশ্ন জেগেছিল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের আবেদন কবে থেকে শুরু হবে তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তার পরেই সে সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটলো।

যে উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল এই বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ সেই উদ্দেশ্য কি মাথায় রেখে বর্তমান বিজেপি সরকার চালিয়ে নিয়ে যাবে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। যে সমস্ত পড়ুয়ারা অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল তাদের পক্ষে উচ্চ শিক্ষার জন্য এগিয়ে যাওয়া অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এইজন্য বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হয় যার মাধ্যমে তারা টিউশন ফি, স্কুল ফি, বই খাতা কেনার খরচ থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে পারে। বিজেপি সরকারের সময় এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে কি যোগ্যতা প্রয়োজন হবে এবং কবে থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে সমস্ত কিছু জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ

কোন কোন স্তরের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে?
উচ্চ মাধ্যমিক স্তর থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও পিএইচডি পড়ুয়ারা এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন।

বৃত্তির পরিমাণ কিরকম হবে?

একাডেমিক স্তর অনুযায়ী ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে মাসিক ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে।

  • উচ্চ মাধ্যমিক বা ডিএলএড শিক্ষার্থীরা মাসিক ১০০০ টাকা পাবেন।
  • পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৫০০ টাকা পাবে।
  • বিজ্ঞান বিভাগের গ্রাজুয়েট পড়ুয়ারা এবং পেশাদারী কোর্সের পড়ুয়ারা মাসিক ১৫০০ টাকা পাবেন। আর্টস ও কমার্স বিভাগে গ্রাজুয়েট পড়ুয়ারা মাসিক ১০০০ টাকা করে পাবেন।
  • পোস্ট গ্রাজুয়েট স্তরে বিজ্ঞান বিভাগে মাসিক ২৫০০ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া পোস্ট গ্রাজুয়েট স্তরে আর্টস ও কমার্স বিভাগে মাসিক ২০০০ টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএড, পিএইচডি ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের মাসিক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে।

কিরকম যোগ্যতা প্রয়োজন হবে?

১) পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২) যে কোন স্বীকৃত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া হতে হবে
৩) পারিবারিক অর্থনৈতিক আয় বার্ষিক হিসেবে আড়াই লক্ষ কম হতে হবে।
৪) পূর্ববর্তী পরীক্ষায় অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: আবেদনের জন্য যে সমস্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে সেগুলো হল : পূর্ববর্তী পরীক্ষার মার্কশীট, ভর্তির রশিদ, পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র, আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড, ব্যাংক একাউন্ট ডিটেলইস, বাসস্থান প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ফটো।

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার জন্য প্রথমে https://svmcm.wb.gov.in/ এই ওয়েবসাইট প্রবেশ করে বৈধ ইমেইল আইডি এবং মোবাইল নাম্বার সহযোগে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর প্রদত্ত ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সহযোগে লগইন করে আপনার সমস্ত ডিটেলস দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন। আবেদন হয়ে গেলে উল্লেখিত ডকুমেন্টস স্ক্যান করে আপলোড করুন এবং সব একবার মিলিয়ে নিয়ে যাচাই করুন, তারপর সাবমিট করুন। একনলেজমেন্ট স্লিপ নাম্বার প্রিন্ট আউট করে নিন যেটি ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

আরোও পড়ুন: রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ২০২৬, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃত্তির সুযোগ! জানুন বিস্তারিত।

খুব শীঘ্রই বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে তাই সমস্ত ডকুমেন্ট জোগাড় করে রাখুন যাতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলেই আবেদন করার সুযোগ পেতে সুবিধা হয়।

একদিকে যেমন বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ঠিক তেমনি পহেলা জুন থেকে প্রাক্তন সরকারের জনদরদী প্রকল্প গুলোর নাম পরিবর্তিত হয়ে নতুন নাম করা হয়েছে এবং যেগুলির মাধ্যমে দ্বিগুণ পরিমাণ অনুদান ঢুকতে চলেছে পয়লা জুন থেকে। অর্থাৎ বিজিপি সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি মতন সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া, জুন মাস থেকে শুরু করার চেষ্টা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *